Wednesday, March 25, 2009

দূর পরবাসে - ৫: বরফ আর পাহাড়ের রাজ্যে


"আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই..." গানটা আমি শুনিনি কখনো কিন্তু যে শহরে থাকি সেখানকার জন্যে এই লাইনটা একদম পারফেক্ট। আল্পস এর পাদদেশে এই ট্রেনটো শহরে আগে নাকি লোকজন স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য আসতো, আর এখন আসে স্কি করতে। স্কি ট্র্যাক হিসাবেও ট্রেনটো বেশ বিখ্যাত। আমাদের আমেরিকান বন্ধু জেফ, যে নাকি কলোরাডোতে হাঁটতে শেখার আগে স্কি করতে শিখেছে, এখানকার ট্র্যাকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জেফ বলেছিলো ওর সাথে স্কি করতে গেলে শিখিয়ে দেবে, কিন্তু আমার হাত-পা ভাঙ্গার ভীতিজনিত কারণে আর যাওয়া হয়নি। এই শীতের সিজন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখছি রাস্তাঘাটে অনেক লোকজন (ইউনির প্রফেসর পর্যন্ত) পায়ে ব্যান্ডেজ, হাতে ক্রাচ আর মুখে পরিতৃপ্তির হাসি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এইটাই শীতের স্টাইল, স্কি করতে গিয়ে পা ভাঙ্গা নিয়ে কথা!

অন্য ইউনির কথা জানিনা কিন্তু আমাদের এখানকার ওয়েলকাম অফিস (মানে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিস) খুবই অ্যাক্টিভা এবং হেল্পফুল। ইতালির মত দেশে, যেখানে ব্যুরোক্রেসির লাল ফিতার দৌরাত্ন্য বাংলাদেশের চেয়ে কম না, এই ওয়েলকাম অফিসের জন্যেই আমাদের ভিসা, হোস্টেল, স্টে পারমিট, ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে অন্য দেশে ঘুরতে গিয়ে পাসপোর্ট হারানো - সব মুশকিলের আসান হয়ে যায় নিমিষেই। এসব ঝামেলা মেটানোর পরেও ওরা আরো অনেক কিছু করে, যেমন মুভি শো, ওয়েলকাম পার্টি, ল্যাংগুয়েজ ক্যাফে। তবে সবার সবচাইতে প্রিয় মনে হয় ওদের ট্যুরগুলো, প্রতি মাস-দুমাসে আয়োজন করে ওরা, আশেপাশের শহর, লেক, পাহাড় বা মিউজিয়ামে। এসব ট্যুর লিমিটেড লোকের জন্যে হয়, খুব তাড়াতাড়ি মেইল করে কনফার্ম না করলে মিস হয়ে যায়। তবে বাঙ্গালিরা একজন জানা মাত্রই সবাইকে জানানো হয়ে যায় বড়জোর একঘন্টায়, তাই ওয়েলকামের সব ট্যুরেই অর্ধেক বাস ভর্তি থাকি আমরা!

Dolomiti বা ডলোমাইটস ট্যুরের জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করে যাওয়া হলো এই গত শনিবারে। বাস জার্নিটা খুবই দারুণ ছিলো, পাহাড়ি রাস্তায় এমন সব কার্ভ, মনে হচ্ছিলো থিমপার্কের কোন রাইডে চড়েছি। ডলোমাইটস এর কাছাকাছি যেতেই দেখা গেলো দলে দলে লোকজন স্কি করছে, ছেলে-বুড়ো পুরো ফ্যামিলিশুদ্ধ। স্কি করতে দেখাটা বেশ অ্যাডিক্টিভ, বাস থেকে সবাইকে দেখে বেশ লোভ হচ্ছিলো। সাথের রাশিয়ান একজন বললো, দেখতে যত সোজা বাস্তবে তার চাইতে ঢের কঠিন, তবে বিগিনারদের জন্যে আলাদা ট্র্যাকও আছে। যাহোক আমরা বাসে করে যতটুকু যাওয়া যায় গিয়ে সেখান থেকে ১০ ইউরো দিয়ে কেবল কারের টিকিট কাটলাম। কেবল কার জিনিসটাই আমার ব্যাপক প্রিয়, আর ওইরকম পাহাড় আর বরফের উপর দিয়ে গেলে তো সোনায় সোহাগা! উপরে গিয়ে আমরা যারপরনাই মুগ্ধ আর একই সাথে ঠাণ্ডায় জমে বরফ। আমরা ছিলাম ২৯৫০ মিটার উপরে। ঝকঝকে রোদেলা দিনে সবাই মিলে যার যা আছে ঝাঁপিয়ে পড় নীতিতে যার যার ক্যামের নিয়ে ছবি তুলতে লেগে গেলো। আমরা যে রাস্তা ধরে আসলাম, সেই রাস্তাটা দেখা যাচ্ছিলো উপর থেকে।

জুম করে তোলা রাস্তার ছবি -


আমি জানিনা অন্য স্কি ট্র্যাকে এইরকম কোন ওয়ার্নিং থাকে কিনা, তবে এইখানে ছিলো -


কে শোনে কার কথা! অনেক দুঃসাহসীদের দেখা গেলো কেবল কারে করে উপরে এসে ধুমধাম স্কি করতে নেমে যাচ্ছে। এমনই এক দলের সাথে ছবি তোলা হলো।


ঠাণ্ডায় হাত জমে যাচ্ছিলো বলে অনেকেই একটু পর পর বাথরুমের হ্যান্ড ড্রায়ারে হাত 'গরম' করে নিচ্ছিলো। বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া খিচুড়ি-গরুর মাংস দিয়ে লাঞ্চ সারা হলো। তারপর উপরের রেস্টুরেন্টের আরামদায়ক উষ্ণতায় এক কাপ গরম চকোলেট উইথ হুইপড ক্রিম!


উপরে প্রায় দুঘন্টা কাটিয়ে কেবল কারে করে নেমে এলাম। তারপর ঘরে ফেরার পথে একটা লেকের (Lake Carezza) পাশে থামা হলো, শুনেছিলাম খুব সুন্দর এই লেকের পানি নাকি পুরো সবুজ। আমরা অবশ্য সাদা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলাম না - পুরো লেকটাই জমে ছিলো!
এটা লেকের পাড় থেকে তোলা ছবি, বামদিকের গাছের ফাঁকে যা দেখা যাচ্ছে ওইটাই লেক। চারপাশে এত পুরু হয়ে বরফ জমে ছিলো যে ছবিও তোলা যায়নি ঠিকমত।

সব মিলিয়ে ডলোমাইটস ট্যুরটা হলো অনন্যসাধারণ, মনে রাখবার মতন।

পুরো ট্যুরের ছবির ফেসবুক অ্যালবামঃ
প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব

Friday, March 20, 2009

দূর পরবাসে - ৪: ICT DAY এবং বিরিয়ানি

আজকে একটা ক্লাস ছিলো সারাদিনে, সেটাও হলোনা ICT Day এর কল্যাণে। ICT Day মানে অনেকটা আমাদের দেশের জব ফেয়ারের মত, বিভিন্ন নামজাদা কোম্পানি থেকে প্রতিনিধিরা আসবে, ছাত্ররা রিজ্যুমে নিয়ে কথাবার্তা বলবে, সম্ভাব্য চাকরি নিয়ে আলোচনা করবে, এই আর কি।
অনুষ্ঠান ছিলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, মাঝে প্রতি ঘন্টায় কোম্পানিগুলোর প্রেজেন্টশান। বিশটার মত স্টল ছিলো, IBM, Siemens, Alcatel, Fiat Research, Telecom Italia ছাড়াও আরো অনেকগুলান। বেশ ভিড় দেখলাম, টেলিকম ইতালিয়ায় তো রীতিমত লাইন ধরতে হইছে কথা বলার জন্যে। IBM রোমে তিন মাসের ইন্টার্নশিপ দিচ্ছে, এখানে থাকলে হয়তো সুযোগ নেয়া যেত। কিন্তু আমি আছি জুলাই পর্যন্ত, সুতরাং সে গুড়ে বালি।

আমরা পাঁচজনা এক সাথে খাওয়াদাওয়া করি, সপ্তাহের পাঁচদিন ঘুরেফিরে রান্না করতে হয় সবাইকেই। আজ আমার রান্না ছিলো। বেশ কিছু বাসমতি চাল স্টকে থাকায় জনগণ বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলো গতকাল। ডাল-ভাত-মাছ-মাংস মাশাল্লাহ ভালোই রান্না করি কিন্তু বিরিয়ানিতে এখনও কনফিডেন্স না থাকায় রাশেদ ভাইয়ের শরণাপন্ন হলাম; দুইজনে মিলে জব্বর একখান রান্না হলো। দেশে থাকতে আব্বু-আম্মুকে দেখতাম কত প্রিপারেশান নিয়ে বিরিয়ানি রান্না করতো (সেইটা অবশ্য অতি অসাধারণ বাদশাহি বিরিয়ানি, তার ধারে কাছে যাইতে পারলে বর্তে যেতাম!), আমাদের সিম্পল রেসিপিতে রাঁধা বিরিয়ানিও কিন্তু মন্দ হয়নি।
বিরিয়ানি শেষে পলিন ভাইয়ের কিচেনে বসে আবার চা-বিস্কুট এবং গপ্পো। আগামীকালের রেসিপিটাও ঠিক করে ফেলা হলো।
খাওয়ার উপরেই আছি!

Sunday, March 15, 2009

দূর পরবাসে - ৩

ইতালিতে এসে শীতের প্রকোপে তেমন পড়তে হয় নাই আমাদের। ডিসেম্বর-জানুয়ারি, যেই সময়টায় কড়া ঠাণ্ডা ছিলো তখন আমাদের পরীক্ষা চলে, ঘর থেকে বের হওয়া লাগছে সপ্তাহে দুই সপ্তাহে এক-দুই দিন। নতুন সেমিস্টার শুরু হলো ফেব্রুয়ারি ১৫ তে, এই মার্চে এসে ওয়েদার হয়ে গেছে আমাদের দেশের বসন্তকালের মত। বরফমাখা আল্পস এর চূড়া থেকে আসা বেয়াড়া কনকনে বাতাসটাই যা একটু ডিসটার্ব করে। গত সপ্তাহে পুরোটাই ছিলো ঝকঝকে রোদমাখা মন ভালো করা সব দিন, টেম্পারেচার দিনের বেলায় ১৫-১৮ এর ঘরে! আমরা থাকি ইতালির একদম উত্তরে, ঠাণ্ডা প্রান্তে। এইখানেই এই অবস্থা।

এইরকম রোদেলা দিনে সপ্তাহান্তে আমরা ক্রিকেট খেলবোনা, চিন্তাও করা যায়না। শহরে অনেক মাঠ আছে, তবে সাধারণত মাঠে খেলতে যাওয়ার অনেক হ্যাপা, আগে থেকে বুকিং দেয়া লাগে, ভাড়াও দেয়া লাগতে পারে। তবে আমাদের ঘরের কাছেই একটা মাঠ আবিষ্কার করা গেছে যেইটার কোন মালিক নাই, বেশ সুন্দর, চারদিকে ফেন্স দেয়া, চার-ছয় মারলেও বাসার ছাদে গিয়ে পড়ার চান্স নাই, বড়জোর বারান্দায় যাইতে পারে। পিচ্চি কতগুলারে দেখা যায় ফুটবল নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে, আমরা গেলে অবশ্য তারা মাঠের বাইরে এক কোনায় চলে যায়, বেশ আগ্রহ নিয়ে আমাদের 'আজব' খেলা দ্যাখে। আর বাইরে বল গেলে দৌড়ায় গিয়ে বলে এনে দেয়। চারপাশের লোকজনও চলতে ফিরতে দাঁড়ায় যায় আমাদের খেলা দেখে, অনেকে জানতে চায় "কয় গোল হইলো?"!
আজকে তিনটা ম্যাচ খেলা হলো। দুটো দশ ওভার আর শেষে একটা ছয় ওভারের। সবগুলাই জমেছিলো বেশ। খেলা শেষে ফিরতে ফিরতে প্রায় দুপুর তিনটা; লাউভাজি, রুই মাছের দোপেঁয়াজা আর ডাল দিয়ে জমিয়ে খাওয়া হতে হতে বিকাল। সন্ধ্যার একটু আগে ভারতের সন্দ্বীপ ফোন করলো ব্যাডমিন্টন খেলতে যাবার জন্যে। যাবার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু টায়ার্ড ছিলাম বেশ। একদিনে আর কত!

আর এখন ভাবতেছি কোন মুভিটা দেখা যায় - Hellboy 2, Chocolat নাকি V for Vendetta আরেকবার...

Thursday, March 12, 2009

দূর পরবাসে - ২

ফেসবুক আজকাল ভালোই সময় খায়। খারাপ লাগেনা, লোকজন কি করতেছে জানা যায়, ছবি-টবি দেখা যায়, অনেক পুরান অথবা নন-টেকি বন্ধুবান্ধবও দেখি আজকাল ফেসবুকে চলে আসতেছে। ভালোই। প্রথম প্রথম আজাইরা সব গ্রুপ ইনভাইটেশান, টপ ফ্রেন্ড, বন্ধু তুলনা - এইগুলা খুব বিরক্তিকর লাগতো। এখন এইগুলা আর দেখিও না, কোন রিকোয়েস্ট দেখলেই সোজা ডিলিট। বন্ধুদের স্ট্যাটাস আর ছবিতে মন্তব্য করা, জন্মদিনে উইশ করা, হালকা পাতলা মেইল চালাচালি, এইতো। কবে যেন একটা ভিডিও দেখলাম, 25 things I hate about Facebook নামে। আরে যেটারে এত অপছন্দ করে সেইটারে নিয়া গবেষণা করার কি আছে! আমার তো মনে হয় সবই হইলো মার্কেটিং পলিসি। যতই ঘৃণা করিবে ততই ভালোবাসিবে।

Wednesday, March 11, 2009

দূর পরবাসে - ১

আজ 'তরঙ্গ এবং ব্যবস্থা' মানে কিনা Signals and Systems এর ছোট একটা পরীক্ষা ছিলো। ছোট মরিচে ঝাল বেশি গুরুজনে বলতেন, আজকের পরীক্ষায় স্টেট মেশিনের চাপে পড়ে চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন হলো। হাসিখুশি পেঙ্গুইন মার্কা প্রফেসর পালোপলি যে এইভাবে পাণ্ডা বানাবেন তাই কি আঁচ করতে পেরেছিলাম!

তারপর গেলাম সেন্সর নেটওয়ার্ক এর ল্যাব করতে। কত নাম শুনেছি, ছোট-বড় ভাইয়ারা কতশত গবেষণা করেন জানি, আজ প্রথম সেন্সর সোনামনিকে চোখে দেখলাম, চেখেও দেখা হলো। একখান আদ্রতা সেনসিটিভ সেন্সরকে কিভাবে লাল-নীল লেড বাতিতে জর্জরিত করা যায়, তারই হাতেকলমে শিক্ষা হলো। শিক্ষক সহকারী ভদ্রলোক অমায়িক; বেশ সহযোগিতা করলেন, প্রথম ল্যাব করিনি জেনে একটু বেশি সময় দিলেন।
যা বুঝলাম, বাচ্চার কান্না ডিটেক্ট করা থেকে শুরু করে বাথরুমের 'সু'গন্ধ দূর করা, সবকিছুতেই সেন্সর ব্যবহার হতে আর দেরি নেই।

Saturday, March 7, 2009

BDR killing

The disastrous so called mutiny of BDR turned into a mass murder, killing more than 70 army officials and civilians. Among the martyrs is Captain Mazhar, ex-cadet of Comilla Cadet College where we stayed together for more than two years. He was only four years senior to me, a bright young gentleman. What a loss.

Following the event, investigations have started from different institutions. Nonetheless, as forgetful as we are, there is every chanc that people will start to forget this horror and the real criminals behind this would never be brough into daylight. Thus we should try from our respective positions to keep our sorroundings aware of the event and help to dig out the facts. That's is the least we can do for the departed souls and their grieving family members.

I will try to collect and post relevant articles about the incident.

The event in Wikipedia
Telegraph's stupid interpretation and Mash's reply
Personal experience of an Army officer about the feeling of general people towards the Army
Analysis on a chain mail which is claimed to be sent by an anonymous Army personnel
Experience from another point of view

I hope to update the list frequently. You are welcome to share any insightful or interesting read if you come across.